
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। গভীর রাতে র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পর সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পাহাড়ঘেরা জনপদটি।
রোববার দিবাগত রাত (২৫ মে) ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথবাহিনী আগে থেকেই কয়েকটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। রাতের আঁধারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি র্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে যৌথবাহিনীও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগেই বুলডোজার ব্যবহার করে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুর থেকে আলীনগরে প্রবেশের কয়েকটি সড়ক কেটে ফেলে হামলাকারীরা, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আলোচিত ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই বিশাল এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকান ও মার্কেট। সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের তথ্যমতে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একরজুড়ে বিস্তৃত এলাকাটি দুই ভাগে বিভক্ত, যার একাংশ ছিন্নমূল এলাকা এবং অন্য অংশ আলীনগর নামে পরিচিত।
এর আগেও এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গত ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন চট্টগ্রাম র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া। পরে ৯ মার্চ সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন।
সর্বশেষ হামলার পর জঙ্গল সলিমপুরে নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সন্ত্রাসী দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।