
লেবাননের ঐতিহাসিক ‘প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে দেশটির সরকার, সাধারণ নাগরিক এবং সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি বিশেষ কূটনৈতিক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লেবানন পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি এবং হিজবুল্লাহর বর্তমান মহাসচিব নাঈম কাসেমের কাছে পাঠানো দুটি পৃথক পত্রে হিজবুল্লাহ ও বৈরুতের প্রতি তেহরানের অবিচল, অনড় ও দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিগত ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবাননের ভূখণ্ড থেকে দখলদার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করার ঐতিহাসিক গৌরবোজ্জ্বল দিনটিকে স্মরণ করে আরাগচি তাঁর চিঠিতে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখতে ইরান সর্বদা দেশটির পাশে থাকবে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক বিবৃতিটি এমন এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল মুহূর্তে এলো, যার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেন। একই সাথে মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক লেবাননের সাধারণ জনগণকে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক আদর্শ ও সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসে প্রতিবাদ করারও প্রকাশ্য আহ্বান জানান।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের কারণে এ পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক। এমন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলমান সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির সংলাপে লেবানন যুদ্ধের স্থায়ী অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে এখনও স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
অন্য দিকে, উদ্ভূত এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের নীতিনির্ধারকেরা লেবাননের ওপর নতুন করে ভূরাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গত রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননসহ সবকটি ফ্রন্ট থেকে আসা প্রতিপক্ষের হুমকির বিরুদ্ধে তেল আবিবের তথাকথিত ‘আত্মরক্ষার অধিকারের’ বিষয়টি আবারও নীতিগতভাবে নিশ্চিত করেছেন।
তবে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো অবস্থাতেই কঠিন সময়ে লেবাননকে একাকী ফেলে যাবে না। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধ অবসানের জন্য যেকোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় লেবানন ও হিজবুল্লাহর হাত ইরান সবসময় শক্ত করে ধরে রাখবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার জোরালো আশ্বস্ত করা হচ্ছে।