
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক উত্তেজনা কমাতে এক বিশেষ কূটনৈতিক মিশন নিয়ে তেহরান সফর করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। এই সফরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির কাছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের একটি বিশেষ চিঠি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হস্তান্তর করেছেন বলে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) রাতে তেহরানে পৌঁছানোর পর পরই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মহসিন নাকভি। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিভি ডিজিটাল জানায়, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এজেন্ডার পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
বৈঠক শেষে নিজের সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে মহসিন নাকভি বলেন, "ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পক্ষ থেকে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির জন্য একটি বিশেষ চিঠি এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বার্তা পৌঁছে দিতে আমি তেহরানে এসেছি।"
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের এমন উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার জেরে পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা আগে থেকে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আঞ্চলিক এই সংকট নিরসনে ও একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তান পর্দার আড়ালে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার তেহরানের এই বৈঠকটি ছিল গত মাত্র তিন দিনের মধ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি ও ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনির মধ্যকার তৃতীয় আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এর ঠিক আগেই কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে তারা আরও দুবার একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকেই দুই বৈরী পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইসলামাবাদ। মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি বজায় রাখার বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগে পাকিস্তান শুরু থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে বলে দেশটির নীতি-নির্ধারকেরা জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ