
ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে নাটকীয় উত্থান ঘটিয়ে আবারও এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পপতি গৌতম আদানি। গত শুক্রবার (৫ জুন) শেয়ারবাজারে তাঁর মালিকানাধীন আদানি গ্রুপের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম এক লাফে রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পর শীর্ষ ধনীর তালিকায় এই বড় রদবদল ঘটল।
মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গৌতম আদানির ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভূতপূর্ব লাফের পর বর্তমানে আদানির মোট নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ টাইকুন রিলায়েন্স প্রধান মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গ্রুপের কর্ণধার মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান নিজের করে নিলেন। বর্তমানে মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে আকস্মিক বড় পতনের ধাক্কায় মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ sac ৭০০ কোটি ডলারে নেমে গেছে।
আন্তর্জাতিক এই ব্যবসায়িক মোড়লের আর্থিক প্রতিপত্তির সাথে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতেরও একটি বড় সংযোগ রয়েছে। গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জোগান দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল রাখতে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে স্থাপিত আদানির ১ হাজার৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গত শুক্রবার শেয়ারবাজারে আদানির অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে তাদের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’। একদিনেই এই কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ৬.৯ শতাংশ। এর বাইরে তাদের মূল হোল্ডিং কোম্পানি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, বন্দর পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অন্য সকল সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে চাঙ্গা হয়েছে। সব মিলিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আদানির ছয়টি প্রধান কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূল্য এখন প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা একটি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যবসায়িক পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। আইনি এই জটিলতা থেকে মুক্তির পর মাত্র কয়েক সপ্তাহেই তাঁর সম্পদ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে আদানির বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ডলারের একটি আন্তর্জাতিক ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যেখানে দাবি করা হয়, ভারতে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের বড় চুক্তি পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং এই তথ্য লুকিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আদানি ও তাঁর গ্রুপ শুরু থেকেই তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছিল।