
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ আর সেচ মৌসুমের বাড়তি চাপ সামলাতে দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে। এই পিক আওয়ারে প্রাথমিক জ্বালানির সংকট, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও এটিকে প্রচলিত অর্থে 'লোডশেডিং' বলতে নারাজ সরকার।
আজ রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব কথা জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল অভিযোগ করেন যে, দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো দৈনিক পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে এবং নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলেও তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে।
এই প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনেও সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ৩২টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর বাইরে ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত ক্ষমতার মোট ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
শতভাগ জনগণকে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, পারদ উর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বাড়লেও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তা মোকাবিলা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত চাহিদার আলোকেই উৎপাদন রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মোতাবেক গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত তৎপরতা চলছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন ধরে রাখতে সময়সূচি মেনে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করে সেগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফলে উৎপাদন ঘাটতিজনিত কারণে দেশে লোডশেডিং করার কোনো প্রয়োজন হয় না।
সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সরকারি গ্রিড অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে কিংবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় (বাল্ক) গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রক্রিয়াধীন থাকা ৬৬৫ মেগাওয়াটের ১৫টি কেন্দ্র ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।