
কুয়েতে স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। একটি বাড়ির ভেতরে অনুমোদনহীন মুদি দোকান চালু করে সেখান থেকেই তাঁরা এসব পণ্য বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কুয়েতের সাদ আল-আবদুল্লাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি স্কুলের কাছাকাছি অবস্থিত মুদি দোকান থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রি করা হচ্ছে—নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে এমন তথ্য আসে। পরে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি শুরু করেন কর্মকর্তারা।
তদন্তের অংশ হিসেবে ক্রেতাদের কাছ থেকে কীভাবে অর্ডার নেওয়া হতো, কীভাবে পণ্য প্রস্তুত করা হতো এবং সেগুলো ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করা হতো, তা পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা। একপর্যায়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির সময় বাড়ির বাইরে থেকে প্রথম সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে।
অভিযান চালিয়ে ১৩টি বড় ও ২৩টি ছোট বাক্সে রাখা ই-সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১৯টি ছোট প্যাকেট তামাক এবং বিক্রির টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন ১ হাজার ৭২২ কুয়েতি দিনার উদ্ধার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচজন মিলে দোকানটি পরিচালনা করতেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাজ ছিল আলাদা করে নির্ধারিত। তাঁদের মধ্যে কেউ দোকানের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন, কেউ পরিচালনাসংক্রান্ত কাজ সামলাতেন। আবার কেউ ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া ও টাকা সংগ্রহ করতেন। অন্যদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল ফোনে অর্ডার গ্রহণ, পণ্য প্রস্তুত করা এবং ক্রেতাদের কাছে সেগুলো পৌঁছে দেওয়া।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।