
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে হলে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ কথা বলেন। তিনি জানান, এই নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় ইরানের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে কোনো দেশের পক্ষেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে অবশ্যই ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।’
বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন বলেও জানান।
কোনো বাংলাদেশি জাহাজ এরই মধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ বিষয়ে গোপনীয় তথ্য কেবল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই রয়েছে।’
হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইরান, কাতার ও ওমানের এ বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রথম শর্ত হলো, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
এ সময় জলিল রহিমি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে ইরান তাদের সমর্থন করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে।’
ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমানভাবে জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জলিল রহিমি জাহানাবাদি।