
কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালিশ চলাকালে মহিলাদের বাগ্বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের পশ্চিম জিনারাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জরিনা আক্তার বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন চৌদ্দশত ইউনিয়নের পশ্চিম জিনারাই গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে মো. মিজান (৩০), মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে সুরুজ মিয়া (৫৫), সুরুজ মিয়ার ছেলে আবুল বাসার (২৫), গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আল-আমিন (৩২), জজ মিয়ার ছেলে ইমরান (২৬), মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৫৮), লেহাম উদ্দিনের ছেলে মো. হোসাইন (২৫), সাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. কাঞ্চন মিয়া (৩০), মৃত আব্দুল কুলুর ছেলে লেহাম উদ্দিন (৫২), মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে তারা মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা বাদীপক্ষের পাশের বাড়ির বাসিন্দা এবং একই গোষ্ঠীর লোক। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক বাদীপক্ষের পৈতৃক জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাধা দিলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া একাধিকবার পুকুর থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৯ মার্চ বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দ্বীন ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় একটি বসতঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি গোয়ালঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়। একই সঙ্গে ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় দ্বীন ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর গত ৪ জুলাই স্থানীয়ভাবে সালিশ চলাকালে অভিযুক্তরা বাদীর স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আহত করেন। পরে বাদীপক্ষের লোকজন প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাদীপক্ষের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মিজান মিয়া বলেন, ‘দ্বীন ইসলাম ও তারা একই গোত্রের লোক। কাগজপত্রে দ্বীন ইসলামের জমির পরিমাণ বেশি হলেও বাস্তবে তাদের কোনো জমি দখলে নেই। এ বিষয়ে সালিশ বসলে দ্বীন ইসলাম বাইরের লোকজন এনে সালিশ না মেনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে ক্ষোভের বশে তাদের বসতবাড়িতে হামলা হয়েছে, তবে কোনো লুটপাট করা হয়নি।’
চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী বলেন, ‘দ্বীন ইসলাম জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি আমাকে একাধিকবার জানিয়েছে। ঘটনার আগে আমি প্রতিপক্ষকে কয়েকবার মীমাংসার জন্য ডেকেছি, কিন্তু তাদের নিয়ে বসতে পারিনি।’
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’