
নির্বাচনী প্রচারে জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, জামায়াত কিন্তু দুই নাম্বার দল। এই পৃথিবীতে একটামাত্র মুনাফেকের দল ইসলামের নাম বলে, তার নাম হইল জামায়াত। মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্যের উদাহরণ টেনে ফজলুর রহমান বলেন- হেফাজতে ইসলামের আমির বলেছেন, “কাফের যদি ক্ষমতায় যায়, ইসলাম ফেরত আসতে পারে; কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর ইসলাম ফেরত আসবে না।”’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় ফজলুর রহমান জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর এটিই তার নির্বাচনী মাঠে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রচার কর্মসূচি।
তিনি বলেন, প্রচারের প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি ভৈরবে তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ওই দিন বিকেলে তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণে এতদিন তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। সুস্থ হওয়ার পর গতকাল ঢাকা থেকে সরাসরি মিঠামইনে এসে পথসভায় যোগ দেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘যে কথাটা বাংলাদেশে সাহস করে কেউ বলে না, সেই কথাটা আমি সংসদে বলব। আমি সংসদে যাওয়ার অর্থ হলো, একটা বাতি সব সময় জ্বলতে থাকবে। এই বাতি হলো সত্য কথা বলার বাতি। যে কথাটা বাংলাদেশে সাহস করে কেউ বলে না, সেই কথাটা আমি বলব। কাজেই ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মানুষেরা আমাকে ভোট দিলে আপনারা গৌরবান্বিত হবেন। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই এই কারণে, হাওরাঞ্চলকে আমি সোনার সংসার করতে চাই।’
নিজের বয়স ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর, আমার বয়সের শেষ সীমা। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আগামী পাঁচ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের সবার বয়স ৮০ বা ৮২ বা ৮৫ হবে। আপনারা ইচ্ছা করলে আমার শেষজীবনে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিয়ে গৌরবান্বিত হতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দেওয়ার জন্য আর পাবেন না আপনারা।’
ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোল্লা এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মিয়াসহ স্থানীয় নেতারা।