
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নাগরিক প্রতিনিধিদল। রাউজান উপজেলার সুলতানপুর পৌরসভায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তারা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের আতঙ্ক দূর করতে হবে। এছাড়া, সব নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে নাগরিক প্রতিনিধিদলে ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের সিইও জাকির হোসেন, কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্টের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চবি সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক। এ সময় স্থানীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে (সজীব), সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী, সহসভাপতি তপন চৌধুরী (মনু), উপদেষ্টা অরুন বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক ত্রিফল চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ আরতি শীলের পোড়াভিটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নাগরিক প্রতিনিধি দল।
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা করা হয়েছে। যাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে, তারা এখন মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা প্রায়ই প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি, কিন্তু ভোটারদের নিরাপত্তা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তেমন কথা হয় না। সব ভোটারকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া জরুরি।”
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। এই মুহূর্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে পরিস্থিতি উন্নত হবে। তবে নির্বাচন পূর্ব মুহূর্তে সংখ্যালঘু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”