
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান তার পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান এবং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৩৬ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের স্বাধীন চলাচল ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। আবেদনকারী ফাতেমা বেগম একজন ধর্মপ্রাণ বয়োজ্যেষ্ঠ নারী, যিনি জীবনের শেষ সময়ে পবিত্র মক্কা ও মদিনা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ওমরাহ পালনে রওনা হয়েছিলেন। তবে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই তাকে বিমানে উঠতে দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আদালতের বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও এই বাধা দেওয়া আপিল বিভাগের প্রতিষ্ঠিত রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রিটে দাবি করা হয়, এই ঘটনার কারণে তিনি গভীর মানসিক কষ্ট ও আঘাতের মধ্যে পড়েছেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ‘অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারী আচরণে’ তার ধর্মীয় অনুভূতিতে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং এটি একটি ‘কনস্টিটিউশনাল টর্ট’ হিসেবে বিবেচ্য।
এই প্রেক্ষিতে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে তার তাৎক্ষণিক আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি কিছুটা লাঘব হয়।
আইনজীবী জানিয়েছেন, রিটটি শিগগিরই হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।