
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে এলপিজি নিয়ে একটি ট্যাংকার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ওমান উপসাগর থেকে আগত ‘এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম’ নামের এই জাহাজটি গত শুক্রবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পণ্য খালাস করেছে।
শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছানো এটিই প্রথম এলপিজি পরিবাহী জাহাজ। স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড এই এলপিজি আমদানি করেছে। মোট ৩,৮০০ টন এলপিজি নিয়ে জাহাজটি ওমানের দুকম বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। পথে শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাসের পর সীতাকুণ্ডে বাকি অংশ নামানো হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলেও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফলে এই চালানটি আনা সম্ভব হয়েছে।”
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে ইরানে হামলার পর তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় উত্তেজনা বাড়েছে। বিশেষত ইরান যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল বার্গেনিং ফোরাম (আইবিএফ) এই এলাকাকে ‘যুদ্ধাঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঝুঁকির কারণে বিমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধ প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেওয়ায়, পণ্য পরিবহনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
এ সময় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বড় জ্বালানি ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। ‘এমটি লিব্রেথা’ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে কাতারের উপকূলে এবং ‘এমটি নরডিক পলুকস’ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি না মেলায় এই জাহাজগুলো এখনও বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি।
আটকে থাকা জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে। গত ২৫ মার্চ ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিলেও কারিগরি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান থাকায় জাহাজগুলো গন্তব্যের দিকে রওনা হতে পারেনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশ এবং এলএনজির ৬৫ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে এসেছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।