
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে উস্কানিমূলক আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার রয়েছে বলে আবারও জোর দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস।
শনিবার (২১ মার্চ) মেহের নিউজ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানকে কেন্দ্র করে চলমান হামলার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আঞ্চলিক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় দ্রুত উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতিসংঘ প্রধান।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই মন্তব্য আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিএবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারসহ বহু মানুষ ‘শহীদ’ হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শতাধিক নারী ও শিশুও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ প্রায় ৭০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশজুড়ে গভীর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করেছে। ইরান বিভিন্ন অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষ করে যেসব দেশ আক্রমণকারীদের সহায়তা করছে বা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, তাদের স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে তেহরান স্পষ্ট করেছে, তারা আন্তর্জাতিক বিধি মেনেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান, যেন তাদের ভূখণ্ড হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়। তেহরানের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরপেক্ষ অবস্থান অত্যন্ত জরুরি।
জাতিসংঘের এই অবস্থান ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে সংঘাত থামার কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে, আর বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি