
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি তিন-পর্যায়ের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং হিজবুল্লাহর ভবিষ্যতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সমাধানের পথ এখনো কণ্টকাকীর্ণ।
হিজবুল্লাহ ইস্যু ও তেহরানের প্রস্তাব
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ৩০ দিনের জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্থায়ীভাবে এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। তেহরান যখন 'সব রণাঙ্গন' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করছে, তখন তারা লেবাননের হিজবুল্লাহকেও এই চুক্তির আওতায় আনতে চাইছে। তবে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে নারাজ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকালই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, "হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ ইরান নির্ধারণ করতে পারে না।"
বিপরীতে ইরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে যে, তাদের এই ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া তারা এগোবে না।
স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের নিশ্চয়তা ও অবরোধ প্রত্যাহার
ইরানের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা। তেহরান এই নিশ্চয়তার জন্য কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বদলে সরাসরি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ ও প্রস্তাব চাইছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ।
এর পাশাপাশি ইরানের আরেকটি বড় দাবি হলো—তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।
হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম নিয়ে অনড় অবস্থান
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অবস্থান ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানি পক্ষ বলছে যে, বর্তমান কৌশলগত প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। ফলে তারা কোনোভাবেই পরিস্থিতিকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে দেবে না এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
সবশেষে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে এবং ইতিমধ্যে তাদের সংগ্রহে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে সাফ মানা করে দিয়েছে। মূলত এই মৌলিক মতপার্থক্যগুলোই বর্তমানে শান্তি আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।