
প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ার ও রণকৌশলে মুন্সিয়ানা দেখানো লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি পেতে যাচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ড। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহানের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ মে। এর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় স্থলবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন রাজা সুব্রামানি। বর্তমানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মরত আছেন।
অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সামরিক জীবন
লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:
উপ-সেনাপ্রধান: ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত তিনি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন।
কমান্ডিং ইন চিফ: তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-ইন-সি) পদেও আসীন ছিলেন।
শুরু: ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে ঐতিহ্যবাহী পদাতিক ইউনিট ‘গারওয়াল রাইফেলস’-এ কমিশন লাভের মাধ্যমে তাঁর সৈনিক জীবন শুরু হয়।
দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা ও অনন্য অর্জন
পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এই জেনারেল অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ) ও ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (আইএমএ) থেকে স্নাতক শেষ করেন। উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং দিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে তিনি পড়াশোনা করেছেন।
অসামান্য বীরত্ব ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভারতের একাধিক শীর্ষ সামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে:
পরম বিশিষ্ট সেবা পদক।
অতি বিশিষ্ট সেবা পদক।
সেনা পদক।
বিশিষ্ট সেবা পদক।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ এবং শিক্ষিত অফিসারের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী আধুনিক সমরাস্ত্র ও রণকৌশলে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।