
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সুবিধা পেতে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ডাকাতির নাটক সাজানোর অভিযোগে ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল তদন্তকারীরা। কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘ইউ-ভিসা’ পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখাতে তারা এই সাজানো ঘটনাগুলো ঘটাতেন।
বস্টন, ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতির মিথ্যা ঘটনা তৈরি করতেন। এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা নিজেদের হামলার শিকার হিসেবে তুলে ধরতে পারতেন, যা ইউ-ভিসা পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত।
তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত ছয়টি দোকান, লিকারের দোকান এবং ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় এমন ভুয়া ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী দলের একজন সদস্য ডাকাত সেজে দোকানে ঢুকে লুটপাটের অভিনয় করতেন, আর পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো। এরপর সেখানে থাকা অন্য সদস্যরা পুলিশের কাছে খবর দিতে পাঁচ মিনিট বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতেন, যাতে ঘটনাটি বাস্তব বলে মনে হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে জিতেন্দ্রকুমার, মহেশকুমার, সঞ্জয়কুমার, অমিতাবাহেন, সঙ্গীতাবেন ও মিতুল প্যাটেলকে ম্যাসাচুসেটসে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে রমেশভাই, রোনককুমার, সোনাল ও মিনকেশ প্যাটেলকে কেন্টাকি, মিসৌরি ও ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের সবাইকে বস্টনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
আইন অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকা এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এফবিআই, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে গ্রেপ্তারগুলো সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং আইন অনুযায়ী আদালতে অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সবাই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।