
বিশ্বকাপের ফাইনাল সামনে রেখে নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস) ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে আলবিসেলেস্তেদের অন্তত ছয় খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারকে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধকে ঘিরে গান গাইতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তারা মাঠে ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’ (ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে উদযাপনও করেন।
ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে রাজনৈতিক বার্তা, স্লোগান কিংবা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা এড ডেভি। তিনি ফিফা সভাপতি বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এড ডেভি বলেন, ‘ফিফার নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ফিফার নিয়মের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা এবং সেই অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রাণ দেওয়া শহীদ ব্রিটিশ সেনাদের পরিবারের জন্য চরম অপমানজনক।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে একই ধরনের রাজনৈতিক স্লোগানের ঘটনায় স্পেনের রদ্রি ও আলভারো মোরাতাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা। একই নজির অনুসরণ করে এবারও শাস্তি দেওয়া উচিত বলে তার দাবি।
ডেভির ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব ছয়জন খেলোয়াড় ব্যানারটি বহন করেছিলেন এবং উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং জিওভানি লো সেলসোকে ওই ব্যানার হাতে দেখা গেছে। এছাড়া ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস বলেন, ফকল্যান্ডস ‘সব সময়ই আর্জেন্টিনার থাকবে।’
তথ্যসূত্র: গিভ মি স্পোর্ট, আল-জাজিরা