
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আপাতত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক আলেকজান্দরু হুদিস্তেনু। তার মতে, শেষ পর্যন্ত দুই দেশকেই আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলেকজান্দরু হুদিস্তেনু বলেন, ‘কূটনীতির পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, বরং এটি সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-উভয় পক্ষকেই এই যুদ্ধাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। তাই শেষ পর্যন্ত তারা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে বাধ্য হবে।’
হুদিস্তেনুর ভাষ্য, সংকটের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লক্ষ্য, কৌশল এবং কূটনৈতিক আলোচনার কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট মতবিরোধ ছিল। যুদ্ধের অবসান কীভাবে হবে এবং সংলাপ কোন ভিত্তিতে এগোবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমঝোতা গড়ে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, এই মতপার্থক্যের কারণেই পরিস্থিতি আবারও সীমিত সামরিক সংঘাতের দিকে গড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার দাবি, গত দুই মাসের মধ্যে বর্তমানে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা