
ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং, শেষ দিকে ঝোড়ো ক্যামিও এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। বুলাওয়েতে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ করেছে টাইগাররা। ফলে ১৯ জুলাইয়ের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচই নির্ধারণ করবে সিরিজের ভাগ্য।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৫২ রানে অলআউট হয়।
বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে রাখেন তারা। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপরও অব্যাহত থাকে দুই ওপেনারের দাপট। শতরানের জুটি গড়ে দুজনই তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক।
১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে সাইফ হাসানের বিদায়ে। তিনি ৪৫ বলে ৫৫ রান করে ফেরেন। পরের ওভারেই ৪৪ বলে ৫৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তানজিদ। এরপর হঠাৎই ব্যাটিং ধস নামে বাংলাদেশের। ১২০ থেকে ১৪১ রানে পৌঁছাতে পাঁচ উইকেট হারায় দল। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় করেন ৬ রান, পারভেজ হোসেন ইমন ১ রান এবং নুরুল হাসান সোহান প্রথম বলে চার মারলেও পরের বলেই আউট হন।
শেষ দিকে ইয়াসির আলি চৌধুরী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝোড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। বিশেষ করে শেষ ওভারে চার-ছক্কায় ২৮ রান তোলেন সাইফউদ্দিন। তিনি ১০ বলে অপরাজিত ৩১ এবং ইয়াসির ১২ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট শিকার করেন সিকান্দার রাজা।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে প্রথম ওভারেই ১৫ রান তুললেও শেষ বলে তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে ফেরান শেখ মেহেদী হাসান। পরের ওভারেই নাহিদ রানা আউট করেন ব্রায়ান বেনেটকে, যিনি ৫ বলে ১১ রান করেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৭ বলে ৪ রান করা ডিয়ন মেয়ার্সকেও ফেরান শেখ মেহেদী।
এরপর মিল্টন শুম্বা ও সিকান্দার রাজা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রাজা ১২ বলে ২৮ রান করলেও পাওয়ারপ্লের পরপরই বিদায় নেন। মিল্টন করেন ২০ বলে ১৯ রান। পরে রায়ান বার্ল ১৯ বলে ২৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও রিশাদ হোসেন তাকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ৪০ রান প্রয়োজন ছিল স্বাগতিকদের। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন শেষের আগের ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ব্র্যাড ইভান্সকে ফিরিয়ে দেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৮ রান। তবে চার বলের মধ্যেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৫২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন রিশাদ হোসেন।
বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৪টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বোলিং করেন। শেখ মেহেদী হাসান নেন ৩ উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সাইফ হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য।