
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের মঞ্চ থেকে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা ছুড়ে দিলেন বাংলাদেশ লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তার অভিযোগ, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করে ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যে চেয়ারে বসে আছেন, কিছুদিন আগেই সেই আসনে ছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “প্রধানমন্ত্রী, আপনি যে চেয়ারে বসে আছেন, ওই চেয়ারে কিছুদিন আগে শেখ হাসিনাও বসা ছিল। ওই চেয়ারে আপনি বসেছেন ১৪শ শহীদের রক্ত পেরিয়ে। আপনাকে মনে রাখতে হবে এই শহীদরা কী চেয়েছেন।”
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ছয় বছর কাজ করেছেন। তবে তার দাবি, তখনও তিনি মনে করেননি ক্ষমতায় গেলে বিএনপি পরিবর্তিত হবে।
বর্তমান বিএনপির অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এখনকার দলটিকে দেখে মনে হয় না এটি খালেদা জিয়া বা জিয়াউর রহমানের বিএনপি। তার ভাষায়, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যদের প্রভাব বেড়েছে। বিশেষ করে সালাহউদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তিনি যেন ‘সবজান্তা শমসের’ হয়ে উঠেছেন এবং নানা ক্ষেত্রে তার অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আজ বিএনপির দিকে তাকালে মনে হয় না যে বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি বা জিয়াউর রহমানের বিএনপি আজকে ক্ষমতায় আছে।”
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে শহীদদের আত্মত্যাগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। তার মতে, “এই শহীদরা শুধুমাত্র ভাতা চায়নি... তারা চেয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ; যে বাংলাদেশে শোষণ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি সামনে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথাও তুলে ধরেন।
শেষে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন। তার অভিযোগ, বিএনপি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী নয়, কারণ তারা একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজছে।