
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মৌলিক সাংবিধানিক কাঠামোতে পরিবর্তন না এলে রাষ্ট্র আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হতে পারে। গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই সংস্কারের মূল ভিত্তি। তার অভিযোগ, এসব বিষয়ে সরকার আপত্তি জানিয়েছে, কিন্তু জনগণের সামনে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ প্রত্যেকটি সাংবিধানিক পথই হলো সংস্কারের মূল কাঠামো। এগুলো সংস্কার করা না হলে রাষ্ট্র আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু আপনারা সেখানে ‘না’ বলেছেন। অথচ জনগণকে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বলছেন—আমরা মেনে নেব।’
তিনি আরও দাবি করেন, জনগণের ভোটে সেই আপত্তি ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তার ভাষায়, ‘৫ কোটি মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে আপনাদের সেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) খারিজ করে দিয়েছে। জনগণের সেই সামনে আপনাদের ওই আপত্তির কোনো কার্যকারিতা নেই।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যালটে উত্থাপিত চারটি প্রশ্নেও ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কোনো উল্লেখ নেই, যা পুরো ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই নির্দেশ করে। তিনি বলেন, ‘গণভোটের ব্যালটে যে চারটি প্রশ্ন সেখানেও নোট অব ডিসেন্ট নেই। তার অর্থ হলো গণভোটের পুরা রায় আপনাকে মানতে হবে…’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ চলমান থাকায় সংবিধান সংস্কারের পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব। দ্রুত সেই উদ্যোগ নিয়ে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধানে সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ‘…তা না হলে আবার যদি রক্ত আন্দোলনের দিকে শহীদদের ঠেলে দেন, জাতির কাছে আপনাদের নির্মম পরিণতি বরণ করতে হবে।’
৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে চলমান কর্মসূচি—বিক্ষোভ, মিছিল, সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠক—অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। তার মতে, সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চলবে এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্য না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।