
চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করতে মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আদালতে আনা হয় পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ট্রেইনি সহকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন পলাশকে। পরে তাঁকে স্ট্রেচারে করে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে হাজির হয়ে মামলায় জামিনের আবেদন করেন পলাশ।
তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আদালত তাঁকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী মো. রমজান আলী রিপন।
আইনজীবী জানান, পলাশ স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত। তাঁর শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত। অন্যের সহায়তা ছাড়া তিনি দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন না।
আইনজীবী আরও বলেন, “শুনানির সময় আদালত জানান, আসামি পলাশকে বর্তমান শারীরিক অবস্থায় কারাগারে পাঠানো হলে তাঁকে কোনো হাসপাতাল বা কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হবে। তখন আমরা আত্মসমর্পণের আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য সময় প্রার্থনা করি। আমরা বলেছি, তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে আবার তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণ করাব।”
দুদকের মামলা
এর আগে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জামালপুরের বকশীগঞ্জে দ্য ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড) শাখা থেকে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলার আসামিরা হলেন—পদ্মা ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তাঁর মেয়ে রিমি চিশতী, সাবেক সহকারী কর্মকর্তা ফখরুজ্জামান, সাবেক ট্রেইনি সহকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন পলাশ এবং কামরুজ্জামান।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
পরে ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন এবং পলাতক আসামিদের মধ্যে রুহুল আমিন পলাশসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।