
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বাজেটকে গতানুগতিক, গণবিরোধী এবং বাস্তবতা বিবর্জিত উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এটি কার্যকর বাস্তবায়নের চেয়ে বরং অনিয়ম ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পাবনা-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “এই বাজেট একদিকে যেমন অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও বাস্তবায়ন অযোগ্য, অন্যদিকে এটি আগামী বছরের লুটপাটের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাত্র।”
বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সীমিত ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে অর্থবিল সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়নের মূল দায়িত্ব আমলাদের হাতে থাকায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ।
প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট আখ্যা দিয়ে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ঘাটতি মেটাতে দেশীয় ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়ন ব্যবস্থাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের শর্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এসব শর্তের কারণে কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমে যেতে পারে।
কর কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে প্রত্যক্ষ করদাতার সংখ্যা এখনও খুবই কম। ফলে ভ্যাট ও অন্যান্য পরোক্ষ করের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর বেশি পড়ে। তিনি দাবি করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যয় আরও বাড়বে।
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়নি—সরকারের এমন অবস্থানের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অর্থবিলের নির্দিষ্ট ধারায় আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে আবাসন বাজারে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা আরও চাপে পড়তে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে দাবি করে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থের বড় অংশ কার্যকর কাজে ব্যয় হয় না। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের হিসাব সংসদে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে বাজেটে ঘোষিত ‘জাল যার, জল তার’ নীতির প্রশংসা করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি এ নীতির আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জলাশয় ব্যবস্থাপনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার আহ্বান জানান।