
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান। তার মতে, সরকার এটিকে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে এর ঘাটতির পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাজেটের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে কামরুল হাসান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই ঘাটতি আরও অনেক বেশি হতে পারে।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। অথচ নতুন অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা তার মতে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। তার ধারণা, বাস্তবে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
কামরুল হাসান আরও বলেন, ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা যোগ করলে সরকারের মোট আর্থিক চাপ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এত বড় ঘাটতি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি দলের বাজেট মূল্যায়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন,“আপনারা এটিকে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাজেট বলছেন। তবে এর সঙ্গে যদি ‘সর্বকালের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট’ কথাটিও যোগ করতেন, তাহলে মূল্যায়নটি আরও বাস্তবসম্মত হতো।
বাজেট আলোচনা ছাড়াও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির সমালোচনা করেন কামরুল হাসান। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় বিএনপি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপির কল্যাণ চাই, দেশের কল্যাণ চাই। আমরা চাই না কোনো রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদী প্রবণতার দিকে এগিয়ে যাক। সে কারণে তাদের প্রতিটি কার্যক্রমের যৌক্তিক সমালোচনা ও বিরোধিতা করব।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।