
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে, তাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “জনগণ গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশছাড়া করেছে। আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের পরিণতিও কী হতে পারে তা ভাবতে হবে। আওয়ামী লীগের যাওয়ার জায়গা আছে, কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই।”
প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্ধারিত রাজস্ব আদায় প্রায়ই পূরণ হয় না। ফলে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি ঘোষিত পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংসদ সদস্য বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি দাবি করেন, ২০০৯ সালে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধের বোঝাও দ্রুত বাড়ছে।
ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ সংগ্রহ কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ না পাওয়া গেলে অর্থ ছাপানোর প্রবণতা বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।
বাজেট নিয়ে সমালোচনাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, বিরোধী দলের কাজ শুধু প্রশংসা করা নয়; বরং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে বাজেট ও নীতিনির্ধারণকে আরও কার্যকর করা।
তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করতে হবে।