
দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ৩–২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, ম্যাচে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মিসর বঞ্চিত হয়েছে এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রথমে ২–০ গোলে এগিয়ে যায় মিসর। তবে শেষ দিকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের টানা তিন গোলে ৩–২ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে আমরা ভালো খেলেছি। প্রায় সব দিকেই আমরা এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
মিসর কোচের অভিযোগ, তাদের একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় বাতিল করা হলেও আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনা ভিএআরে পর্যালোচনা করা হয়নি। তার দাবি, মোহাম্মদ সালাহর ওপর সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনাতেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি এবং সেটিও ভিএআরে দেখা হয়নি।
হোসাম হাসান বলেন, ‘আমরা সম্মান কিংবা ফেয়ার প্লে কিছুই পাইনি। সালাহর ওপর হওয়া ফাউলের ঘটনায় সম্ভাব্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, এমনকি ভিএআরেও দেখা হয়নি। আমাদের দ্বিতীয় গোলও অদ্ভুতভাবে বাতিল করা হয়েছে।’
রেফারি নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানান মিসর কোচ। তার দাবি, ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল মিসর।
তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার অতীত বিবেচনায় আমরা এই রেফারি নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয়েছে আমাদেরই।’
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন হোসাম হাসান। তার ভাষ্য, ‘সবাই দেখেছে আমাদের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরা হয়েছিল। অথচ সেটিও ভিএআরে দেখা হয়নি। বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না?’
ম্যাচ শেষে প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটিও হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি রেফারিকে বলেছি, “এটা অন্যায়।” আমি বলেছি, হয়তো তার লুকানোর কিছু আছে। কেউ যদি কিছু লুকানোর চেষ্টা করে, অনেক সময় সেটি লুকিয়ে রাখতে পারে না।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা প্রকাশ করে হোসাম হাসান বলেন, ‘এই ম্যাচের ফল এবং যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। বলতে চাই দুর্ভাগ্য, কিন্তু বাস্তবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’
সবশেষে তিনি জানান, ‘যাই হোক, আমার কাজ শেষ। এই টুর্নামেন্টের আর কোনো ম্যাচ আমি দেখব না।’