
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলো হতাশার মধ্য দিয়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেও মাঠের ফলাফলে আসেনি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। বরং ৩৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সের সাক্ষী হলো সেলেসাওরা।
চলমান বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিল ব্রাজিল।
টানা নয়টি বিশ্বকাপে অন্তত শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার যে ধারাবাহিকতা ছিল, এবার সেটিও ধরে রাখতে পারেনি লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি। এর আগে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোর ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর আর কখনো কোয়ার্টার ফাইনালের আগে থামতে হয়নি তাদের। ৩৬ বছর পর নরওয়ের কাছে হেরে সেই পুরোনো দুঃস্মৃতিই ফিরে এলো।
গত কয়েকটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল নিয়মিত শেষ আটে খেলেছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে তাদের যাত্রা শেষ হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালেই। আর ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের পরাজয় সত্ত্বেও সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল দলটি।
তবে এবার সেই রেকর্ডও ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ ষোলোর গণ্ডিই পেরোতে পারেনি আনচেলত্তির দল। টুর্নামেন্টজুড়ে এলোমেলো ফুটবল, সঙ্গে নেইমারের অশ্রুসিক্ত বিদায়—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ব্রাজিলের জন্য আরেকটি হতাশার অধ্যায় হয়ে থাকল।
এদিকে এই বিদায়ের মাধ্যমে আরেকটি হতাশাজনক পরিসংখ্যানও দীর্ঘায়িত হলো। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে এখনও জয় পায়নি ব্রাজিল।