
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায় মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও ব্রাজিলের পরাজয়ে তার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে নেইমারের জন্য। একই সঙ্গে বিশ্বকাপজুড়ে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে সীমিত সুযোগ দেওয়ায় প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সমালোচনাও করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই আনচেলত্তির ঘোষিত দলে জায়গা পান নেইমার। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বেশিরভাগ সময়ই তাকে থাকতে হয়েছে বদলি বেঞ্চে। প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি হিসেবে খেলেন। এরপর শেষ ৩২-এর জাপান ম্যাচে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। শেষ ষোলোর নরওয়ে ম্যাচেও ৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে সুযোগ পান তিনি।
বিশ্বমানের একজন ফুটবলারের প্রতি এমন ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাশরাফি লিখেছেন, ‘শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে। হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিককে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে। একটু বেশি সময় পেলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো। বিদায় বেলায় কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছিল। কী অসাধারণ একজন ড্রিবলার! কী অ্যাকুরিসি ছিল তার পায়ে! তার চেয়ে সহজভাবে কেউ পেনাল্টি মারতে পারে বলে মনে হয় না। ক্যারিয়ারটা কী দারুণ হতে পারতো। অথচ সেটার কাছাকাছিও যেতে পারলো না।’
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের। তবে মাশরাফির মতে, পেনাল্টি মিস করাও খেলারই স্বাভাবিক অংশ।
এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘দুই দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল। বিগত চারটা বছর এই পেনাল্টি পেনাল্টি করে চিল্লাপাল্লা করে আজ সেই পেনাল্টিই কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ, আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হয় না। এমন না যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল। তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে। যাক, কোনো ব্যাপার না। ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইলো সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে.....।’
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন মাশরাফি। তার ভাষায়, ‘আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো। কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন তেন বিষয় না। আমি তো বলি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সমর্থক একমাত্র আমরাই।’