
প্রায় তিন বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে ভাসালেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমে মাত্র ২০ মিনিট খেলেই নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। ডান পায়ের কাফের চোটের কারণে এক মাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর এ ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তার।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই নেইমারের মধ্যে ছিল বাড়তি আবেগ ও উত্তেজনা। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় চোখ বন্ধ করে আবেগঘন মুহূর্তে অংশ নেন তিনি। ডাগআউটে বসে কিংবদন্তি রোনালদিনহোর কাছ থেকে পান উষ্ণ শুভেচ্ছা।
ব্রাজিল ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে মাঠে নামানো হয়। ওয়ার্ম-আপের সময় গ্যালারিজুড়ে দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
মাঠে নেমেই আক্রমণভাগে সক্রিয় হয়ে ওঠেন নেইমার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে তার বাড়ানো একটি নিখুঁত থ্রু-পাস থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। পুরো ম্যাচে তিনি তিনটি সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং আক্রমণভাগে দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন। সংক্ষিপ্ত সময় খেললেও তার ফিটনেস ও ছন্দে ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত নেইমার গ্যালারিতে গিয়ে সন্তান দাভি লুকা, মাভি ও মেল এবং স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্ডিকে আলিঙ্গন করেন। পরে টিভি গ্লোবোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “প্রচণ্ড নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে খুব আনন্দিত। সবকিছু খুব ভালোভাবেই শেষ হয়েছে।”
এই ম্যাচের মাধ্যমে নেইমার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি পরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে তিনি স্পর্শ করেছেন কিংবদন্তি পেলে এবং রিভালদোকে।
নকআউট পর্বের আগে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে তিনি দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন।