নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় সংসদে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের সব গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করেও যদি তার বিরুদ্ধে ১ টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেবেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার সময় কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি তার বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে আনা কিছু অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সব বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করুন। যদি ১ টাকার দুর্নীতিরও প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে আমি এই জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করব।’
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, তার একটি বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোথাও তিনি নিজের জন্য কোনো বরাদ্দ দাবি করেননি। বরং তার বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক মতভেদ বা বক্তব্যের কারণে যেন তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংসদে দেওয়া কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। এ সময় সরকারদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব সংশ্লিষ্ট সংস্থা তার বিষয়ে তদন্ত চালাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কারও বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ তোলার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি পুনরায় বলেন, তার বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত।
সংসদে তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সরকারদলীয় সদস্যদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাজেট আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য।