
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জাদুকর লিওনেল মেসি ৩৯ বসন্ত পেরিয়ে পা রাখলেন জীবনের ৪০তম অধ্যায়ে। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম নেওয়া এই মহাতারকার ক্যারিয়ারের ঝুলিতে না পাওয়ার কোনো আক্ষেপ নেই বললেই চলে। ক্লাব কিংবা জাতীয় দল—সবখানেই মুঠো ভরে সাফল্যের ছোঁয়া পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি, যেখানে তার পাখির চোখ দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার দিকে।
চলতি বিশ্বকাপের শুরুটা হয়েছে রাজসিকভাবে। প্রথম দুই ম্যাচেই এক হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোল করে পুরো ফুটবলবিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জীবনের বিশেষ এই ক্ষণে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে গিয়ে মেসি অকপটে জানালেন, ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে নতুন কোনো প্রাপ্তির মোহ নেই তার।
ভেঙেছেন ক্লোসার রেকর্ড
সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন কীর্তি গড়েছেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে এখন ১৮ গোল নিয়ে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। নিজের এই ঐতিহাসিক অর্জন ও জন্মদিনকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’-কে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এই মহাতারকা।
সেখানে নিজের পরম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসি বলেন, "সত্যি বলতে, আমি আর কিছু চাই না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি আমাকে সবকিছু দিয়েছেন। খেলাধুলার জগতে যা যা অর্জন করা সম্ভব, তার প্রায় সবই পেয়েছি। এখন শুধু আমার, আমার পরিবারের এবং সবসময় পাশে থাকা মানুষের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।"
জাতীয় দলে কাটছে সোনালী সময়
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার বর্তমানে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং সময়টাকে দারুণ উপভোগ করছেন। দলের একাত্মতা নিয়ে তার সরল স্বীকারোক্তি: "আমি এই মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করতে চাই। এই অসাধারণ দলের অংশ হয়ে থাকতে চাই, যে দলটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসছে। আমাদের প্রত্যেক খেলোয়াড় প্রতিটি ম্যাচে এমন মনোভাব নিয়ে নামে যেন সেটিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ। এই দলের অংশ হতে পারাটাই আমার জন্য আনন্দের।"
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বরাবরের মতোই বিনয়ী উত্তর আসে এই জাদুকরের কাছ থেকে। মেসি বলেন, "ঈশ্বরের কাছে আরেকটি বিশ্বকাপ চাওয়া হয়তো অনেক বেশি চাওয়া হয়ে যাবে। তিনি ইতোমধ্যে আমাকে যা দিয়েছেন, সেটাই আমার জন্য যথেষ্টেরও বেশি।"
বয়স কেবলই একটা সংখ্যা—তা ৪০-এর কোঠায় পা দিয়েও মাঠের পারফরম্যান্সে প্রমাণ করে চলেছেন মেসি। আর তাই তো গোটা আর্জেন্টিনা আবারও তার হাত ধরেই সোনালী ট্রফি জয়ের স্বপ্ন বুনছে। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার প্রহর এখন একটাই, বিশ্বমঞ্চে কি আরও একবার দেখা যাবে মেসির সেই চেনা ট্রফি জয়ের উদযাপন?