
প্রথম টেস্ট, প্রথম ইনিংস আর প্রথম সেঞ্চুরি—ক্রিকেট ইতিহাসে এমন শুরু খুব কমই লেখা হয়। আর সেই বিরল কীর্তির জন্ম দিলেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটার আজান আওয়াইস। বাংলাদেশের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ, গতি আর ধারাবাহিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি খেললেন এক পরিণত, ধৈর্যশীল এবং ম্যাচ-নির্ধারণী ইনিংস।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আজান। দিনের পঞ্চম ওভারে তিনি পৌঁছে যান তিন অঙ্কের মাইলফলকে। নাহিদ রানার ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, যা আসে ৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করার পর। এই ইনিংসটি ছিল শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পাকিস্তানের ইনিংস গড়ার ভিত্তি।
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের বড় স্কোরের জবাবে শুরু থেকেই সতর্কভাবে ব্যাটিং করেন পাকিস্তানের ওপেনাররা। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তীতে গরমে রূপ নেওয়া পরিবেশেও বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন আজান ও তার ওপেনিং সঙ্গী ইমাম-উল-হক।
ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকবার চাপ তৈরি করলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। ফিল্ডিংয়ের ভুল এবং ক্যাচ মিসও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন আজান। বিশেষ করে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনি ও আব্দুল্লাহ ফজল মিলে ফিফটি পার্টনারশিপ গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
শুরুতে ৩২ রানে অপরাজিত থাকা আজান ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ইবাদত হোসেনের ওভারে কাভার ও লং অন দিয়ে টানা চার মারার পরই আসে তার ফিফটি। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। শক্তিশালী বাংলাদেশি বোলিং লাইনআপের বিপরীতে নিজের শট সিলেকশন, ধৈর্য আর টেম্পারমেন্টে ইনিংসটিকে বড় রূপ দেন এই অভিষিক্ত ব্যাটার।
ইনিংসের সবচেয়ে বড় দিক ছিল চাপ সামলানোর দক্ষতা। নাহিদ রানার ১৪০ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পাওয়ার পরও তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। সাময়িক চিকিৎসার পর আবারও ফিরে এসে ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়া তার মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।
বাংলাদেশ যখন একের পর এক উইকেটের জন্য চেষ্টা করছিল, তখন আজান ছিলেন অটল। তার ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান ধীরে ধীরে স্কোরবোর্ডে এগিয়ে যায় এবং ৫১ ওভারে ২০০ রান ছুঁয়ে ফেলে, যেখানে তিনি তখনো অপরাজিত ছিলেন সেঞ্চুরির পথে।
এই ইনিংসকে বিশেষভাবে আলাদা করে দিয়েছে এর পরিস্থিতি। অভিষেক টেস্ট, কঠিন বোলিং আক্রমণ, চাপের ম্যাচ পরিস্থিতি এবং বড় লক্ষ্য—সবকিছুর মাঝেও আজান ছিলেন স্থির। তার এই সেঞ্চুরি কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং ম্যাচের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলা এক ইনিংস হিসেবে জায়গা করে নিল।
মিরপুরে আজানের এই অভিষেক সেঞ্চুরি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে গড়ে ওঠা এক পরিণত ব্যাটিং পারফরম্যান্স, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব।