
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২০০ রান অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ, তবে স্কোরবোর্ডে রানের সংখ্যা বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি দলে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২১০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে আরও গভীর চাপে পড়ে গেছে স্বাগতিকরা, সর্বশেষ আউট হয়েছেন শরিফুল।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ান সাইফ হাসান ও লিটন দাস। সেই সময় মনে হচ্ছিল, রান তাড়া নিয়ন্ত্রণেই আছে। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পরই পাল্টে যায় ম্যাচের গতি।
লিটন ৪৬ রানে আউট হওয়ার পর থেকে ব্যাটিংয়ে আর গতি খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। সাইফের বিদায়ের পর মিডল অর্ডার ছোট ছোট জুটি গড়লেও সেগুলো চাপ কমানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। বরং প্রতি ওভারে রান তোলার সমীকরণ কঠিন হতে থাকে।
৩১ ওভারে ১৩৯/৪ থেকে শুরু হওয়া ধীরগতি ইনিংসের চিত্রটা আরও স্পষ্ট হয় ১৫ ওভার বাউন্ডারি-খরায়। দীর্ঘ সময় কোনো চার না আসা রান তাড়ার চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আফিফ ও তাওহীদ হৃদয় মিলে ৫২ রানের জুটি গড়লেও সেটি ছিল সময়সাপেক্ষ, যেখানে প্রয়োজনীয় গতি আসেনি।
৪১তম ওভারে ১৮৪ রানে আফিফ আউট হলে আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্ব নিতে না পেরে ১৯৪ রানে আউট হন, যা দলকে আরও চাপে ফেলে। এরপর ক্রিজে আসা রিশাদ হোসেন ও বোলার শরিফুল ইসলামও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, তাদের বিদায়ে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২১০/৮।
২০০ পার করলেও ম্যাচের সমীকরণ সহজ হয়নি, বরং উইকেট হাতে কম থাকায় চাপ আরও তীব্র হয়েছে। একসময় যে ইনিংস নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখন সেটি রূপ নিয়েছে টানটান লড়াইয়ে। এখন বাংলাদেশের আশা ভরসার একমাত্র প্রতীক তথা সর্বশেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে রয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।
সব মিলিয়ে পরিষ্কার, সাইফ-লিটনের জুটির পর থেকে বাংলাদেশ আর ছন্দে ফিরতে পারেনি। রান বাড়লেও নিয়ন্ত্রণ হারানো এই ইনিংসে প্রতি বলেই যেন চাপ জমা হচ্ছে, আর সেই চাপ সামলানোর বড় দায়িত্ব এখন কার্যত হৃদয়ের কাঁধে।