
দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতির পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী জুন অথবা জুলাই মাসে মনোনীত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পুরস্কার প্রদান করবেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের একসাথে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মাননা দেওয়া হবে।
১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল। এরপর থেকে এটি অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগে শুধু পুরস্কার বিতরণই নয়, বাছাই প্রক্রিয়ার নীতিমালাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, অতীতে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠত, যা বর্তমান সরকার আর হতে দিতে চায় না।
পুরস্কার নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি সর্বজনস্বীকৃত জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রকৃত যোগ্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেবে। পাশাপাশি প্রতি বছরের পুরস্কার প্রতি বছরই প্রদানের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের সময়মতো সম্মান জানানোর একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় সরকার।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা বিস্তারের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রতিযোগিতায় ফুটবল ও ক্রিকেটসহ মোট সাতটি খেলা থাকবে। এতে মূলত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গত ছয় মাসে ব্যক্তি ও দলগতভাবে দেশের জন্য যারা পদক অর্জন করেছেন, তাদের সম্মানে আগামী ২৯ মার্চ বড় ধরনের সংবর্ধনার আয়োজন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও পেশাদার পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের উৎসাহিত করা এবং তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনার এই পরিকল্পনা দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।