
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরান জাতীয় ফুটবল দল সেখানে অংশ নিলে খেলোয়াড়দের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মাত্র দুদিন আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছিলেন— মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও ইরানের খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। তবে আমি মনে করি, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার খাতিরে তাদের এখানে আসাটা উচিত হবে না।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে আসন্ন গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ওই বৈঠকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মঙ্গলবার দেওয়া এক বার্তায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইরানি দলকে স্বাগত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর ইনফান্তিনো ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করেন এবং সেটি ট্রাম্পকে প্রদান করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ফিফা প্রধান এবারই প্রথম সরাসরি কোনো মন্তব্য করেন।
এদিকে এশিয়ান কাপে অংশ নিতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানের নারী ফুটবলারদের বিষয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরে তারা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ওই খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের আহ্বানের পর অস্ট্রেলিয়া সরকার ইতোমধ্যে পাঁচজন নারী ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে সম্মতি দিয়েছে।