
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক সময়ে এমন টালমাটাল পরিস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে। পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত বোর্ডকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ক্রিকেটারদের আলটিমেটামের মুখে বিসিবি তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখান থেকে বিতর্ক দ্রুত বিসিবির অভ্যন্তরীণ অঙ্গন ছাড়িয়ে মাঠের ক্রিকেটেও ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে বোর্ড আপাতত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে বিসিবির গঠনতন্ত্রের বিষয়টি। বোর্ডের কি ইচ্ছামতো কোনো পরিচালককে সরানোর ক্ষমতা আছে—এই প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরিচালক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বা নির্দিষ্ট আইনি কারণ ছাড়া তাকে সরানো যায় না।
গঠনতন্ত্রে বলা আছে, কোনো পরিচালক কেবল তখনই পদ হারাতে পারেন, যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, নিজে থেকে পদত্যাগ করেন, মানসিকভাবে অক্ষম হন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত হন, টানা তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন অথবা অন্য কোনো ফেডারেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসব শর্তের বাইরে কাউকে পদচ্যুত করার আইনগত সুযোগ নেই।
এ কারণে বোর্ডের হাতে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা সীমিত। শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নিতে হলে তা শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় বিসিবি আপাতত সংকট সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবুও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এম নাজমুল ইসলাম নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন, নাকি বোর্ড আরও কঠোর শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ নেবে—সেই প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। এরই মধ্যে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব জানিয়েছে, পুরো ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টির ওপর নজর রাখবে।