
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রভাবে ক্রিকেট জগতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তার পদত্যাগের দাবিতে অনেক ক্রিকেটারও ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্বের প্রথম দিনের দুটি ম্যাচ মাঠে খেলতে পারেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার দিনভর বিসিবিতে নানা ধরণের আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত নাজমুল ইসলামকে বিসিবির অর্থ কমিটির সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ক্রিকেটাররা শুক্রবার থেকেই মাঠে ফিরবেন বলে ঘোষণা দেন।
তবে, সারাদিনের প্রচেষ্টার পরও বিসিবি নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিসিবির পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতের সংবাদ সম্মেলনে।
মিঠু জানান, নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব মেলেনি। বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা ১৭ জানুয়ারি দুপুরে শেষ হবে।
তিনি বলেন, "আমরা গঠনতন্ত্রের অধীনে কাজ করি। প্রক্রিয়ার অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জবাব না এলে বিষয়টি ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে।"
মিঠু আরও বলেন, শোকজের জবাব পাওয়ার পর ডিসিপ্লিনারি কমিটি নিজস্ব নিয়মে বিষয়টি পরীক্ষা করবে। তিনি যোগ করেন, "আমরা সারাদিন উনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, এমনকি আজ এখানে আনারও চেষ্টা ছিল, কিন্তু যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।"
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি নাজমুল ইসলাম জবাব না দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মিঠু এ প্রসঙ্গে বলেন, "জবাব না দিলে এর ফল কী হতে পারে, তা বোঝাই যায়। আদালতে হাজিরা না দিলে যেমন পরিণতি হয়, এখানেও তেমনটাই হতে পারে।"
এই পরিস্থিতিতে নাজমুল ইসলামকে বিসিবির পরিচালক পদ থেকেও সরানো হতে পারে। এ নিয়ে ডিসিপ্লিনারি কমিটিকেও অবহিত করা হয়েছে। মিঠু বলেন, "ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ফায়াজুর রহমান মিতুর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।"