
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ অস্থির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোন এয়ারলাইনস বা রুট তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, সেটিই এখন প্রবাসগামী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রধান উদ্বেগ। সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পুরোপুরি নিরাপদ কোনো বিকল্প না থাকলেও কিছু এয়ারলাইন এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বর্তমান বাস্তবতায় দোহা ট্রানজিটভিত্তিক ফ্লাইটগুলো তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত রুট পরিবর্তন ও ফ্লাইট সমন্বয় করতে পারায় অনেক যাত্রীর কাছে এটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে থাকছে। তবে কাতারের আকাশসীমা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, ফলে নিশ্চয়তা পুরোপুরি নেই।
দুবাই ও আবুধাবিভিত্তিক ফ্লাইটগুলো চালু থাকলেও সেখানে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি। এমিরেটসের বড় বহর ও বিকল্প ফ্লাইট সুবিধা থাকলেও দুবাই রুট বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে। একইভাবে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিক আঞ্চলিক ঝুঁকির বাইরে নয়। ফলে এসব রুটে বিলম্ব বা হঠাৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
ইউরোপগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল হয়ে যাওয়া একটি বিকল্প হিসেবে সামনে আসছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্স সরাসরি সংঘাতপূর্ণ আকাশসীমা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও কিছু রুট ইতিমধ্যে স্থগিত হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘপথে ঘুরে যেতে হওয়ায় ভ্রমণ সময়ও বেড়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে কম ঝুঁকির বিকল্প হিসেবে পূর্ব এশিয়া হয়ে ভ্রমণের পথ গুরুত্ব পাচ্ছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ও থাই এয়ারওয়েজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে চলায় তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এসব রুটে ভ্রমণের সময় বেশি এবং ভাড়াও তুলনামূলক উচ্চ।
অন্যদিকে কিছু এয়ারলাইনে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের হার বেশি হওয়ায় সেগুলো আপাতত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও পিআইএ-এর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ মানেই অনিশ্চয়তা। তাই যাত্রীদের নমনীয় টিকিট নেওয়া, যাত্রার আগে নিয়মিত ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প রুট প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসগামী বাংলাদেশিদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সঠিক রুট নির্বাচন এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি।