
ছোট বোনের জন্য কেক হাতে বাড়ি ফেরার স্বপ্নই হয়ে উঠল শেষ যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত, যার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে গভীর শোক।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে কুইন্সের উডসাইড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন নিশাত। সেদিন কাজ শেষে ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। রাত তখন প্রায় ১২টা, স্থানটি ছিল রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২ স্ট্রিটের মোড়। ঠিক সেই সময় পশ্চিমমুখী একটি গারবেজ ট্রাক ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পরিবার জানায়, ওই রাতে দেরি হলেও বাসায় না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বড় বোন নওশিন জান্নাত ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন অনুসরণ করে তারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মর্মান্তিক সত্যের মুখোমুখি হন।
নিহত নিশাতের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণের রায়গড় এলাকায়। তার বাবা হেলাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সময় জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে নিশাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিউজার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সবার কাছে তার মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত স্যানিটেশন ট্রাকটির চালক ৩৮ বছর বয়সী এক নারী, যিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং সামান্য আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, নিশাতের মৃত্যুতে উডসাইড ও জ্যাকসন হাইটস এলাকার মানুষ গভীরভাবে শোকাহত এবং কমিউনিটির সবাই তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নিশাতের পরিবার ২০১৭ সালে অভিবাসী ভিসায় সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তার বাবা হেলাল উদ্দিন বর্তমানে কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।