
লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ বাংলাদেশি। কয়েকদিন সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে খাদ্য ও পানির অভাবে একে একে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।
বেঁচে ফেরা রোহান আহমেদ জানান, নির্ধারিত দুই দিনের পরিবর্তে তিন দিন তিন রাত সাগরে পথ হারিয়ে ভাসতে থাকে নৌকাটি। খাবার ও পানির সংকটে প্রথমে একজন, পরে একে একে আরও অনেকে মারা যান। শুরুতে মরদেহ ফেলা না হলেও পরে বাধ্য হয়ে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতদের একজন আলী আহমদ-এর মরদেহ সাগরে ফেলার সময় তার স্বজন নাঈম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা-বাবারে কী জবাব দেব!’—এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের কিছুক্ষণ পর তিনিও মারা যান।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। প্রথমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর এলেও পরে তা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছায়, পরবর্তীতে মোট ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দালাল চক্র বিপুল টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। আজিজুল ইসলাম নামে এক দালালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ফোনে ‘গেম সাকসেস’ হয়েছে বললেও পরে দুর্ঘটনার খবর জানা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে স্বজনদের পাঠানো হয়েছিল। অনেকেই জমি বিক্রি বা ঋণ নিয়ে এ টাকা জোগাড় করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সাগরে ডুবে গেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্বজনদের একটাই দাবি—দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।