
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারে জায়গা পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি যেমন বাদ পড়েছে, তেমনি জামায়াত সরকার গঠন করলেও দলটির প্রকৃত সরকারেও এনসিপির স্থান হবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট! জামায়াত কখনো ক্ষমতায় গেলে প্রকৃত সরকার থেকেও এভাবেই এনসিপি আউট থাকবে।’
সাংগঠনিক শক্তি সীমিত থাকা সত্ত্বেও এনসিপিকে এত আসন এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় দেওয়ার পেছনে জামায়াতের উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় থেকে নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা—এমন দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, ‘শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না, এনসিপিকে দিয়ে ৭১-এর গণহত্যার দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।’ তাঁর ভাষ্য, জামায়াত যতদিন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে, ততদিন ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায়ও দলটির সঙ্গে থাকবে। একইভাবে আওয়ামী লীগকেও ২০২৪ সালের গণহত্যার দায় বহন করেই পালিয়ে থাকতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছায়া সরকার গঠনের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ও বিভিন্ন জরিপে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতাদের হতাশা কিছুটা কমতে পারে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তাঁর মতে, ছায়া সরকার গঠনের পর জামায়াত নেতাদের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হতে পারে। নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে না পারার হতাশা থেকে তাদের হিংসা ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারকে বিকল্প নীতির প্রস্তাব দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুর রহমান আজাদের মতো গুমের ঘটনা নিয়ে ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার’ চালানো হলে ছায়া সরকারকে মানুষ ‘গুজব সরকার’ এবং এর মন্ত্রীদের ‘গুজব মন্ত্রী’ বলতে শুরু করবে বলেও সতর্ক করেন রাশেদ খাঁন।
ছায়া মন্ত্রিসভায় ৫ আগস্টের পর ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া নারী নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধিকে রাখার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজের নাম উল্লেখ করে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো নারীকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করে জামায়াত কোনো নারীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের আগেই নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সরকারে দায়িত্ব পাওয়ার পরও সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।