
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের বন্ধু সীমান্ত দাস আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন।
মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন।
গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদকাসক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে তাদের ডোপ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, সোমবার সকালে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ডোপ টেস্টের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। বুধবার তাদের ডোপ টেস্টের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে।
জিন্নাত আলী বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সাক্ষী হিসেবে সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করতে আদালতে আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার তিনি বাবার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেন। সীমান্ত আদালতে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তা গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। ঘটনার রাতে আসামিরা সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে যে তথ্য দিয়েছিলেন, সীমান্তও আদালতে একই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে মামলাটির তদন্ত করছিলেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। পরে সোমবার রাতে তদন্তের দায়িত্ব ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।