
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে একযোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে দলের দপ্তর সেল থেকে জারি করা জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
এনসিপির দাবি, হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এ ঘটনার প্রতিবাদেই বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দলের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হলে পথে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এনসিপির অভিযোগ, হামলায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ একাধিক নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন। দলটির মিডিয়া টিমের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এনসিপির সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।
ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।