
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক আকাশছোঁয়া সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পারদ মেপে যৌথ শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাহরাইনের ভূখণ্ডে শুরু হয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’।
২৮ জুলাই শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই রাজকীয় সামরিক কুচকাওয়াজ ও মহড়া চলবে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত, যেখানে একযোগে অংশ নিচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত, কাতার, ওমান এবং আয়োজক দেশ বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী।
মহড়ার মূল লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি জানান, মূলত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বহুগুণ বাড়ানো, কৌশলগত ও অপারেশনাল পরিকল্পনার দক্ষতা ধারালো করা এবং জিসিসিভুক্ত ছয়টি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় আরও সংহত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-নুয়াইমি মন্তব্য করেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী যৌথ উপসাগরীয় সামরিক সক্ষমতার জ্বলন্ত প্রমাণ, যা যেকোনো ধরনের জটিল নিরাপত্তা সংকট সামাল দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বাহরাইন শিল্ড’ মহড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সামরিক আত্মরক্ষার কৌশলগত ভিতকে অভাবনীয় রূপ দেবে এবং সীমান্তজুড়ে যেকোনো অতর্কিত বা শত্রুতামূলক আক্রমণের বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রাচীর গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-নুয়াইমি আরও যোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সহিংসতা ও অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে জানান দিয়েছে যে যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদার করার আর কোনো বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটময় যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির ভেতর এই সমন্বিত সামরিক অনুশীলনকে উপসাগরীয় জোটের সার্বিক প্রতিরক্ষা জোরদারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা