জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘বাস্তবায়ন অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, এই বাজেট সাধারণ মানুষের উন্নয়নের পথ তৈরি করবে নাকি তাদের আরও চাপে ফেলবে, সেই বিচার জনগণই করবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রাজস্ব আদায়ের চিত্র বিবেচনায় নিলে বছর শেষে সর্বোচ্চ ৪ লাখ কোটি টাকা আদায় হতে পারে। অথচ আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সরকারি দাবিও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, করপোরেট কর ও লভ্যাংশ কর মিলিয়ে একজন উদ্যোক্তাকে প্রায় ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর দিতে হয়। মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়ার মতো দেশের তুলনায় এ হার অনেক বেশি, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে।
মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশের বেশি। সরকার একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর কথা বলছে, অন্যদিকে ১৬টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী।
নির্বাচনের আগে দেওয়া পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি জানতে চেয়ে তিনি বলেন, গত চার মাসে কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে, তার স্পষ্ট হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বছরের পর বছর ব্যাংকের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার হলেও তা ফেরত আনার বিষয়ে বাজেটে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা এবং নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান করার দাবি জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। অথচ এসব অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চায়।
একজন প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করায় একটি সংবাদপত্রের সম্পাদককে কারাগারে পাঠানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করলেই উন্নয়ন বাজেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।