
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের উদ্দেশে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেছেন দলটির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণ এনসিপিকে বিরোধী দল হিসেবেও গ্রহণ করবে না এবং দলটির ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে নীলা ইসরাফিল লেখেন, ‘প্রিয় সারজিস আলম, তোরা এখন বিরোধী দলে আছিস। কিন্তু মনে রাখিস, বিরোধী দল হিসেবেও তোদেরকে বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিবে না। তোরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবি বাংলাদেশ থেকে।’
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, রাজনীতিতে অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, বিরোধী দলে থাকা বড় বিষয় হলেও জনগণের আস্থা অর্জন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নীলা ইসরাফিল বলেন, দলটি ফিরবে কি ফিরবে না, সেটি সময়ই ঠিক করবে। তবে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাব এখনই দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, জনসমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আরেক অংশে তিনি লেখেন, জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়মতো তার হিসাবও মিলিয়ে দেবে। তার দাবি, এনসিপির পতনের প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে এবং দলের ভুল সিদ্ধান্ত ও বিভ্রান্তিকর অবস্থান সেই পরিস্থিতিকে আরও দ্রুততর করছে।
পোস্টের শেষদিকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে নীলা ইসরাফিল লেখেন, এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ কথা বলে জনগণই।
এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন নীলা ইসরাফিল। মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে ফেসবুকে নিজের ছবি সংবলিত একটি পোস্টার প্রকাশ করে তিনি জানান, সবার ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখা নীলা ইসরাফিল পরে এনসিপিতে যোগ দেন। তবে দলটির আরেক নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পরবর্তীতে তিনি পদত্যাগ করেন।