
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করলেও, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এখনও সচল রয়েছে এবং দেশটি তার বড় অংশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, চলতি মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি থাকা ইরানের ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘাঁটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণযন্ত্র অক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে মাটির নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই আংশিক কিংবা পুরোপুরি সচল অবস্থায় রয়েছে।
তবে এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নয় হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, ইরান বর্তমান সামরিক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। তার ভাষায়, যারা মনে করছেন তেহরান আবারও সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তারা হয় বিভ্রান্ত অথবা ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বক্তব্যকে সমর্থন করছেন।
ইরানের ওপর হামলার সময় ট্রাম্প প্রশাসন বারবার জানিয়েছিল, দেশটির সামরিক অবকাঠামো বড় ধরনের ধ্বংসের মুখে পড়েছে। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালায়। একাধিক ধাপে পরিচালিত এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অ্যারোস্পেস ইউনিটের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি বলেন, যুদ্ধের আগের তুলনায় এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা আরও বেড়েছে। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও শত্রুপক্ষের জাহাজের দিকে ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাক করে রাখা হয়েছে এবং নির্দেশ পেলেই সেগুলো ব্যবহার করা হবে।