
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরির অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী, চিকিৎসক তাসনিম জারা এবং জাহাঙ্গীর কবির-এর পরিচয় ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ও শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম ও ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ৪৭টি স্মার্টফোন, ২টি পেনড্রাইভ, ২১টি সিম কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খ্যাতনামা ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর ও মুখাবয়ব নকল করে ভিডিও তৈরি করত। ভিডিওগুলোতে দেখানো হতো, ওই ব্যক্তিরা নিজেরাই নির্দিষ্ট ভেষজ বা যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রশংসা করছেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়ে এসব পণ্য কিনছিলেন।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান আজহারী প্রথম নিজের নামে এমন ভুয়া ভিডিওর বিষয়টি জানতে পারেন এবং সামাজিক মাধ্যমে অনুসারীদের সতর্ক করেন। পরে এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে তার পক্ষে একজন প্রতিনিধি সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম-এর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার শেরশাহ কলোনি থেকে ৯ জনকে এবং শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুর থেকে মূল হোতা ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সুনাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।