
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, তবে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল।
ঘটনার পর আহত দুই নেতাকে উদ্ধার করে প্রথমে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় থানার সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাদের থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে বের করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে নির্বাচিত হন এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক।
এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করেছেন। তিনি জানান, ঈশান চৌধুরী নামে একটি আইডি থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়। পরে অরণ্য আবির নামে আরেকটি আইডি থেকে সেটি ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে মাহমুদ নিজের আইডি থেকে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, এরপরও আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে দীর্ঘ সময় তা গ্রহণ করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক থানায় গেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, জাইমা রহমানকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর প্রতিবাদে তারা শাহবাগ থানায় যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেখে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে ডাকসুর কয়েকজন নেতা সেখানে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ কয়েকজন নেতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দুই নেতাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।