
ছয়টি সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেতারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।’
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, সিলেট সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের সরকার কর্তৃক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, গণহত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো এগিয়ে নেওয়া।
এর প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারগুলোর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।’
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, ‘এমন পরিস্থিতিতে ছয়টি সিটি করপোরেশনে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে, সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।’
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সরকারের এহেন পদক্ষেপ গ্রহণের আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিলপূর্বক অনতিবিলম্বে সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি।’